| |

Ad

শেরপুরের ঝিনাইগাতী সদর হাসপাতালটি এখন নিজেই সয্যাশায়ী

আপডেটঃ ২:৫০ অপরাহ্ণ | মে ২২, ২০১৯

মো. আবু রায়হান, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:

শেরপুরের ঝিনাইগাতী সদর হাসপাতালটি বিভিন্ন সমস্যায় জর-জড়িত হয়ে হাসপাতালটি এখন নিজেই সয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে। অত্র উপজেলার প্রায় ২লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবার কেন্দ্র বিন্দু অত্র হাসপাতালটি। আর এই হাসপাতালটি কর্তৃপক্ষের অবহেলা-অযতœ ও অবজ্ঞার কারণে অত্র উপজেলাবাসী চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালের নানা সমস্যায় চলে আসছে। কিন্তু সমস্যা সমাধানের কোন উদ্দ্যোগ নেই। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ডাক্তার নার্স ও ওয়ার্ড বয় এর স্বল্পতার কারণে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে দারুণ ভাবে।

দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এসে ডাক্তার না পেয়ে চিকিৎসা উপ-সহকারীর দু’একজন দিয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ হাসপাতালে ডাক্তার না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় ফিরে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। প্রকাশ থাকে যে, অত্র হাসপাতালটির নৈশ্য প্রহরী নেই ১ বছর যাবত, প্যাথলোজিষ্ট ও এম্বোলেন্সের ড্রাইভার নেই ২ বছর ধরে। সবকিছু মিলিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ভেস্তে গেছে। ফলে জটিল রোগীগুলি দ্রুত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে কিম্বা অন্যত্রে নেওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী একটি হাসপাতালে ৯জন ডাক্তার থাকার কথা। কাগজে -কলমে ২/৩জন ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে একজনেরও দেখা মেলে না।

এছাড়া ২/১ সপ্তাহ পর দায়সারা গোছের দায়িত্ব পালন করেন হাতপাতাল কর্তপক্ষের খুদ কর্মকর্তা টি.এইচ.এ। হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই, যাও কিছু আছে সেগুলিও ব্যবহার না করার কারণে নষ্ট হতে চলেছে। এক্সরে মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এক্সরে বিভাগের দায়িত্বরত টেকনোলজিষ্ট জানান, বিদ্যুতিক গোলোযোগের কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমন দোহায় দিয়ে পাশকাটিয়ে যান এক্সরে টেকনোলজিষ্ট। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত উপজেলার সিংহভাগ লোক দরিদ্র কৃষক ও শ্রমিক। এই সমস্ত দরিদ্র কৃষক শ্রমিকরা হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় ঔষধ পাচ্ছে না।

হাসপাতালে শুধু পাওয়া যায় এন্টাসিড, হিস্টাসিন, টেট্টাসাইক্লিন ও আইরণ ট্যাবলেট দিয়েই চলছে ২ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা। যে কারণে জটিল রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসলে দ্রুত তাদেরকে রেফার্ড করে দেয় শেরপুর সদর হাসপাতালে। এতে অনেক দরিদ্র রোগীই অর্থ সংকটের কারণে দ্রুততম সময়ে পৌছাতে পারে না। মোটকথা এ হাসপাতালে দরিদ্র রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে এসে আরও বিপাকে পড়তে হয়। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থা মারাত্মক ভাবে বিঘিœত হচ্ছে বলে অনেক ভোক্ত ভোগী রোগীদের অভিযোগ। তাই অত্র উপজেলার চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন এমন প্রত্যাশা অত্র উপজেলাবাসীর।