| |

Ad

ত্রিশালে পথশিশুদের সাহায্যার্থে এসবিএফ ফাউন্ডেশনের ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্ট

আপডেটঃ ৭:২১ অপরাহ্ণ | মার্চ ১১, ২০২০

নূরুল আমীন, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহ ত্রিশালে পথশিশুদের সাহায্যার্থে আরফান ফ্যামেলী’স স্মাইলিং বেবি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সমাজের অবহেলিত, এতিম ও ঠিকানা বিহীন পথশিশুদের পাশে দাঁড়াতে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আরফান উদ্দিন অপু’র ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগে গড়ে উঠা এ প্রতিষ্ঠানের নব পরিকল্পনায় দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সরকারি নজরুল কলেজ গেইটে বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১০টার সময় পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ মিনি রেস্টুরেন্ট (এসবিএফ ফুড ভ্যান) এর উদ্বোধন হয়েছে।

ত্রিশাল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড দরিরামপুর গ্রামের বালিপাড়া রোড সংলগ্নে অবস্থিত আরফান ফ্যামেলী’স স্মাইলিং বেবি ফাউন্ডেশন ২০১৫ সালে আরফান উদ্দিন অপু’র নিজস্ব অর্থায়নে এক বিগা জমির উপর ১১০ জন পথশিশু নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়ে অদ্যবধি অব্যহত রয়েছে। ধারাবাহিকতায় একটি সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ মিনি রেস্টুরেন্ট (এসবিএফ ফুড ভ্যান) এর উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটি। ভ্রাম্যমাণ মিনি রেস্টুরেন্টের লাভের শতভাগ অর্থই ব্যয় করা হবে সমাজের অবহেলিত, এতিম ও ঠিকানা বিহীন পথশিশুদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে। পথশিশুরা যাতে উন্নত ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করতে পারে এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য যুগান দিয়ে যাচ্ছে।

ভ্রাম্যমান মিনি রেস্টুরেন্টটি উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দরিরামপুর নজরুল একাডেমীর সাবেক শিক্ষক খলিলুর রহমান বিএসসি, ত্রিশাল উপজেলা বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ সরকার, ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর আকন্দ, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মাহমুদা খানম রুমা, ত্রিশাল রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. কামাল হোসেন, ত্রিশাল উপজেলার জাইকার প্রতিনিধি শাহানাজ পারভীন, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম, সাংবাদিক নূরুল আমীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আরফান উদ্দিন অপু এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ত্রিশাল উপজেলা নাট্যসংস্থার সভাপতি সোহেল হাবীব। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আরফান ফ্যামেলী’স স্মাইলিং বেবি ফাউন্ডেশনের মার্কেটিং ম্যানেজার আব্দুল আহমেদ ফরিদ ও জুনিয়র প্রোডাক্শন কোর্ডিনেটর নাবিল আরাফ আদিপ সহ প্রতিষ্ঠানটির আরও অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ।

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আরফান উদ্দিন অপু বলেন, সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুরা নানা প্রতিকূলতার মাঝে বেড়ে উঠে। সাধারনত: পথশিশুদের আচরন- অসত্য বলা, অতিমাত্রা আবেগপ্রবণ, নিজ প্রয়োজনে অন্যকে প্রভাবিত করা, কাউকে সহজে বিশ^াস করে না, ধ্বংসাত্মক কাজে আগ্রহ, নেতিবাচক আচরন, খোলামেলা স্বাধীন জীবনে অভ্যস্ত, সহজে কাউকে মান্য করে না। এদের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনে মনোসামাজিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরী। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে তাদের কাউন্সেলিং বিচক্ষণতার সাথে সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভুমিকা রাখবে। সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ, একাডেমিক শিক্ষার ব্যবস্থা, ভরণ-পোষণ এবং ভবিষ্যত জীবনে স্বাবলম্বী করে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছি।

ইউনিসেফ কর্তৃক পথশিশু বলতে, যে সকল শিশুর জন্য রাস্তাই বসবাসের স্থান অথবা জীবিকার উপায় হয়ে গেছে, তাদেরকে আমরা পথশিশু বলি। ২০০৫ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক গবেষনায় ৪১% শিশুর ঘুমানোর কোন বিছানা নেই; ৪০% প্রতিদিন গোসল করতে পারে না; ৩৫% খোলা জায়গায় পায়খানা করে; ৮৪% শিশুর কোন শীতবস্ত্র নেই; ৫৪% শিশুর অসুস্থতায় দেখার কেউ নেই; ৭৫% শিশু অসুস্থতায় ডাক্তার দেখাতে পারে না; মাদকাসক্তির চিত্র আরও ভয়াবহ, শিশু অধিকার ফোরামের এক প্রতিবেদনে দেখা যায় ৮৫ ভাগ পথশিশু মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসা সম্প্রসারনে সম্পৃক্ত অথবা মাদক ব্যবসায়ী ধারা নিয়ন্ত্রীত। ১৯% হেরোইন, ৪৪% শিশু ধূমপানে ২৮% টেবলেট (ইয়াবা), ৮% ইঞ্জেকশনে আসক্ত, ৮০% শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে জীবন টিকিয়ে রাখছে, ২০% শারিরীকভাবে নির্যাতিত, ৪৬% মেয়ে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার, ১৪.৫% শিশু সার্বিকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের ২০নং অনুচ্ছেদের উপধারা (১) এ বলা হয়েছে ‘পারিবারিক পরিবেশ থেকে যে শিশু সাময়িক বা চিরতরে বঞ্চিত বা স্বার্থ রক্ষায় যে সকল শিশুর পারিবারিক পরিবেশ উপযুক্ত নয় সে সকল শিশু রাষ্ট্র থেকে বিশেষ সুরক্ষা ও সহায়তার অধিকারী।’ দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০% শিশু তন্মধ্যে ১৫% হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত। বাংলাদেশ শিশু আইন ’১৩ এর ৮৯ অনুচ্ছেদে ১৬টি ক্যাটাগরিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কথা বলেছে। বিশ্ব শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পথশিশু পুনর্বাসনের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন বলেন, “আমাদের শিশুরা কেন রাস্তায় ঘুরবে? একটা শিশুও রাস্তায় ঘুরবে না। একটা শিশুও এভাবে মানবেতর জীবন যাপন করবে না।” এ লক্ষ্যে সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে একযোগে পথশিশুদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করার পরামর্শ দেন।