| |

Ad

স্বাধীনতার পর উন্নয়নের মুখ দেখেনি নান্দাইল রোড ও মুশুল্লী রেলওয়ে স্টেশন

আপডেটঃ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ১২, ২০২০

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি মোঃ রফিকুল ইসলাম খোকন: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার এক প্রান্ত ভেদ করে অন্যপ্রান্ত দিয়ে বের হয়ে গেছে ময়মনসিংহ-ভৈরব রেলপথ। এরই মধ্যে উপজেলার দুটি অংশে রয়েছে দূইটি রেলওয়ে স্টেশন। এক সময় উক্ত দুই স্টেশনে মানুষের সমাগম ছিল দেখার মতো। আশেপাশের দোকান-পাট ও হাটবাজারগুলোতে চলতো বিভিন্ন বাণিজ্যিক আদান-প্রদান। বর্তমানে সেই জৌলস আর নেই। শুধুমাত্র অর্থ বাচাঁতে ও নিরাপদ গমন করতে আজও রেলপথ ব্যবহার করছে যাত্রীসাধারণ।

জানা যায়, উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নে অবস্থিত নান্দাইল রোড রেলওয়ে স্টেশন এবং অপরটি মুশুল্লী ইউনিয়নে অবস্থিত মুশুল্লী রেলওয়ে স্টেশন। বৃটিশ আমলে এ দুটি রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণের পর তেমন কোনো উন্নয়নের মুখ দেখেনি স্টেশনগুলো। সম্প্রতিকালে শুধুমাত্র নান্দাইল রোড রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীসাধারনের উঠা-নামার জন্য একটি পাকা ফ্লাটফর্ম ও একটি সিগন্যাল বক্স তৈরি করা হয়েছে।

তবে দুটি স্টেশনের একটিতেও নেই কোনো উন্নতমানের বিশ্রামাগার ও পানীয় ব্যবস্থা। সেই বৃটিশ আমলে নির্মিত পুরাতন জরাজীর্ণ অবকাঠামো দিয়েই চলছে রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম। নান্দাইল রোড স্টেশনে কয়েকজন লোকবল থাকলেও মুশুল্লী স্টেশনে নেই কোনো লোকবল। মুশুল্লী স্টেশনের নামে স্থায়ীভাবে সাঁটানো সাইনবোর্ড রয়েছে। রয়েছে টিকিট কাউন্টার ছাড়াও কয়েকটি জরাজীর্ণ ভবন, কিন্তু নেই কোনো লোকবল। যথারীতি যাত্রীর আগমনসহ ট্রেনে ওঠানামা করলেও টিকিট দেয়া ও দেখাশোনা করার কেউ নেই। মুশুল্লী ইউনিয়ন সহ আশপাশের সংযুক্ত আরো কয়েক ইউনিয়নের লোকজন নিরাপদ বাহন হিসাবে রেলওয়ে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্টেশনের ভবনগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্টেশনে বিভিন্ন গবাদিপশু চড়ে বেড়াচ্ছে। স্টেশনের সাথেই রয়েছে একটি রেলক্রসিং। রেলক্রসিংয়ে গেইটবার তৈরির সময় একজন গেইটম্যান নিয়োগসহ তার জন্য গেইটের পাশেই একটি ছোট পাকা ঘর তৈরি করা হয়েছে।

গেইটম্যান শিশির দাস বলেন, মুশুল্লী স্টেশনে দিনে ও রাতে লোকাল ট্রেনগুলো থামে। তখন এখানে যাত্রী ওঠানামা করে। কিন্তু স্টেশনে কার্যক্রম না থাকায় টিকিট কিনতে পারেন না যাত্রীরা। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে এখানকার যাত্রীরা বিনাটিকেটে ট্রেনে চড়েন। এতে করে সরকার রাজস্বও হারাচ্ছেন। অপরদিকে নান্দাইল রোড রেলওয়ে স্টেশনে কিছু সংখ্যক লোকবল রয়েছে। যার ফলে এখনও রেলওয়ে যাত্রীসাধারনের কিছুটা সমাগম রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। এছাড়া অন্তত নান্দাইল রোড রেলওয়ে স্টেশনে ময়মনসিংহ-চট্টগ্রামগামী বিজয় ট্রেনের স্টপিজ করলে নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, তাড়াইল, কেন্দুয়া, হোসেনপুর, ইটনা ও মদন উপজেলার লোকজনের খুবই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।