| |

Ad

সুমন নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিক ঢাকার সাভারে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত

আপডেটঃ ১১:০৮ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৯, ২০১৯

মো. আবু রায়হান, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কলাকান্দা গ্রামের ছেলে সুমন মিয়া (২১) সাভারে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয়। নিহত গার্মেন্টস শ্রমিক সুমন মিয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সুমন ওই গ্রামের আমির আলীর ছেলে। মঙ্গলবার ঢাকা আরিচা মহাসড়কে সাভারের ওলাইন এলাকায় শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন মিয়া মারা যায়। এ সংবাদ পেয়ে গতকাল থেকে সুমন মিয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সুমনের এই অকাল মৃত্যুতে হতদরিদ্র মা, বাবা আর ভাই বোন ও আত্মীয় স্বজনের কাছে শুধু স্মৃতি। সুমন ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট। এ জন্য ছিল সবারই আদরের। মা বাবা ভাই বোনের ভালবাসা কখনো কমতি ছিলনা। তবে অভাবের তাড়না ওই ছেলেটি গিয়েছিল ঢাকায়। চাকরি নিয়েছিল সাভারের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে। পরিবারের সবারই ভরসা ছিল ছোট এ ভাইটির প্রতি। গত মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার সাভারে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য নিয়ে চলে আন্দোলন। এ সময় ঢাকা আরিচা মহাসড়কে সাভারের ওলাইল এলাকায় ঘটে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। উক্ত ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় গার্মেন্টস শ্রমিক সুমন মিয়া।

নিহত সুমনের পরিবার সূত্র জানায়, তার বাবা আমির আলী ঢাকায় একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ করে। তার মা ফিরোজা বেগম গৃহিনী। তারা দুই ভাই তিন বোন। এর মধ্যে সুমন সবার ছোট। প্রায় ২ বছর যাবত ঢাকার সাভারের আনলীমা এ্যাপারেলস পোশাক কারখানার ফিনিশিং সেকশনে কাজ করতো সে। বিয়ে করেছে বরিশালের তানিয়া নামে এক মেয়েকে। তার স্ত্রী তানিয়াও চাকরি করতো একই গার্মেন্টসে।

সুমনের মা ফিরোজা বেগম বলেন, সুমন মাসে মাসে ট্যাহা পাঠাতো। ওই ট্যাহা দিয়ে আমগোর সংসার চলতো। দুই দিন আগেও ফোন করে বলেছে, মা আমি তোমার আর বড় আপার জন্যে কাপর নিয়ে আসবো। তোমরা আমার লাইগা দোয়া করো। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করো। অহন সুমন আর আমারে মা কইয়া ডাকবো না। এ ব্যাথা ক্যামনে সইমো? ক্যামনে চলবে সংসার?