| |

Ad

শেরপুরের ঝিনাইগাতী মহারশী নদীটি এখন মরা খালে পরিণত

আপডেটঃ ১:০৫ অপরাহ্ণ | মে ১৪, ২০১৯


মো. আবু রায়হান, শেরপুর ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলা মহারশী নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে এক ঐতিহ্যবাহী বড় বাজার। উক্ত বাজার থেকে প্রতি বছর সরকার প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। উক্ত নদীটি বর্তমানে নাব্যতা হারিয়ে প্রায় মরা খালে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ দখলদারে দখলে চলে যাচ্ছে নদীর সিংহ ভাগ হাজার হাজার একর জমি। ফলে দিন দিন নদীটি মৃত খালে রূপান্তরিত হচ্ছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে ঐহিত্যবাহী মহারশী নদীটি অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে। প্রশাসনের (এ্যাসিল্যান্ড অফিসের পূর্ব পার্শ্বে) নাকের ডগায় মহারশী নদীর পাড় বেদখল হচ্ছে অথচ প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে জেগে উঠা কোটি কোটি টাকার সরকারী খাস জমি বেদখল হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। এছাড়া মহারশি নদীটির উপর (রাবারড্যাম) বাঁধ নির্মিত হওয়ায় দিন দিন মরা খালে পরিণত হচ্ছে। মহারশীর নদীর (রাবারড্যাম) বাঁধটি সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় উক্ত বাঁধ দিয়ে খুব অল্প পরিমাণ জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

অথচ একটু পরিকল্পনা করে যদি বাঁধটিকে আরও ভাটির দিকে অর্থাৎ দিঘীরপাড় কিংবা বনগাঁও গ্রামে দেয়া হতো, তাহলে প্রায় ১০ কি.মি নদী জুড়ে পানি প্রবাহমান থাকতো। এতে কয়েক হাজার একর জমি সেচের আওতায় আসত। এছাড়া নদীটির চরগুলি জেগে উঠতো না ফলে নদীর চরগুলি বেদখল হতো না এবং নদীটিতে পানি প্রবাহের কারণে অত্রাঞ্চলের অধিকাংশ জায়গা জুড়ে শীতল রাখতে পারত। কিন্তু রাবারড্যামটি সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় রাবারড্যামের পানি সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যায়।

এতে বাংলাদেশের পরিবর্তে ভারতের বেশী লাভ হচ্ছে। ফলে ভাটির হাজার হাজার একর জমি রাবারড্যামের সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই নদী ও হাজার একর জমির বোরো ফসল বাঁচাতে দিঘীরপাড় কিংবা বনগাঁও গ্রামে একটি রাবারড্যাম নির্মাণ করা অত্যান্ত জরুরী প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

প্রকাশ থাকে যে, বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশের নদীর অস্তিত্ব বিলীন হচ্ছে। একই সাথে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নদ-নদীর যে ভূমিকা তা পরিবেশের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাই অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীটির রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।