| |

Ad

শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে চান ভাসানী

আপডেটঃ ১১:০৭ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

শ্রীবরদী প্রতিনিধি:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেশ কাটতে না কাটতেই দেশ জুড়ে বইছে পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তফসিলের আগাম বার্তা পাওয়ার সাথে সাথেই দেশ জুড়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে ইতিমধ্যেই সমর্থন আদায়ে কর্মী সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে মতবিনিময় করছেন। শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শ্রীবরদী। একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলা। বিগত দুটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ উপজেলাতে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ থেকে সমর্থন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন খোকা, আরেক বার নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রয়াত এ.কে.এম আব্দুল ওয়াদুদ এবং জাতীয় পার্টির আরেক নেতা সবাইকে চমক দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন খোরশেদ আলম ফর্সা। পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীল আ’লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় করছেন। দলীয় প্রতিকে দলীয় ভাবে এবার উপজেলা নির্বাচন হওয়ার খবরে নেতা কর্মীরা অনেকটাই উজ্জবিত হয়ে উঠেছে। শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চাচ্ছেন উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শেরপুর জেলা আওয়ামী আইনজিবি পরিষদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক তরুন আইনজিবি এডভোকেট তারিকুল ইসলাম ভাসানী। গত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি দলীয় চেয়ারম্যান পদে সমর্থন চাইলেও সর্বশেষ দলের সিনিয়র নেতা আশরাফ হোসেন খোকাকে সমর্থন দেন। এর আগেও তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাঘ মার্কা প্রতিক নিয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও দলীয় কোন্দল ও দলের একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকার কারনে বিজয়ী হতে পারেন নি তিনি। একাধিকবার শেরপুর জেলা বারের আ’লীগ প্যানেল থেকে নির্বাচন করে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। পাশা পাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সকল রাজনৈতিক মামলা ও বিভিন্ন মামলা পরিচালনার মাধ্যমে দলে তার শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ফলে উপজেলা আ’লীগের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে তাকে মনোনয়ন দেন শেরপুর জেলা আ’লীগ। পাশা পাশি সামাজিক কর্মকান্ডেও তিনি একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতিকে সমর্থনের আশায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে বিরামহীন গণ সংযোগ করছেন। গতকাল রোববার বিকেলে কুড়িকাহনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে এডভোকেট ভাসানী স্থানীয় আ’লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীবরদী উপজেলা আ’লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি ও কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব লিয়াকত আলী তালুকদার আজাদ। এতে বক্তব্য রাখেন কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক শহিদুর রহমান ছুটি, শ্রীবরদী উপজেলা আ’লীগের সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আ’লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ মাষ্টার, উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ মাষ্টার প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এডভোকেট তারিকুল ইসলাম ভাসানী। এ সময় কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ৫ শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় ভাসানী বলেন মানুষের ভালবাসায় আমি আজ এডভোকেট ভাসানী হয়েছি। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন পেলে আমি নৌকা প্রতিক নিয়ে এ উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে চাই। আমি এ উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সকলকে সাথে নিয়ে শ্রীবরদীতে মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলব। জানাযায় উপজেলার কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নের সম্ভান্ত পরিবারের সন্তান এডভোকেট ভাসানী। ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন। তার বাবা আবুল খায়ের বি.এস.সি অত্র এলাকায় একজন সফল শিক্ষানুরাগী হিসাবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তার এক চাচা মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন। তার আরেক চাচা কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান যিনি একসময়কার শ্রীবরদী উপজেলার ছাত্র রাজনীতির নক্ষত্র হিসাবে পরিচিত ছিলেন। রাজনীতিক পরিবারের সন্তান ভাসানী শৈশব থেকেই মানব সেবায় নিজেকে নিবেদিত করেন। শেরপুর জেলা বারে আইনজিবি হিসাবে যোগদান করেই তিনি দুস্থ অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে আইনগত সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে জেলা আদালত জুড়ে নিজেকে একজন নীতিবান আইনজীবি হিসেবে সু-প্রতিষ্ঠিত হন। আ’লীগের রাজনীতিতে একজন দক্ষ ব্যক্তিত্ব ভাসানী। শ্রীবরদী উপজেলা আ’লীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। উপজেলা থেকে শুরুকরে তৃণমূলে রয়েছে তার গ্রহণ যোগ্যতা বিশেষ করে কুড়িকাহনিয়া, গোশাইপুর, গড়জরিপা ও কে.কের চর ইউনিয়নের জন সাধারণ প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনেই একাট্রা হয়ে একজন প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে থাকেন। আর এ সকল ইউনিয়নের তৃণমূলের ভাসানীর গ্রহণ যোগ্যতা কমতি নেই। তিনি এ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেলে ভোটের মাঠের চিত্র অনেকটায় বদলে যাবে বলে মনে করছেন আ’লীগের তৃণমূলের নের্তৃবৃন্দরা।